বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০
প্রথম পাতা » এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য | পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম | সাবলিড » মায়ের মৃতদেহের কাপড় নিয়ে খেললো অসহায় শিশু
মায়ের মৃতদেহের কাপড় নিয়ে খেললো অসহায় শিশু
বিবিসি২৪নিউজ,অমিত ঘোষ,ভারত থেকে : শুধু শিশুটিই বুঝতে পারলো না খেলতে খেলতে হারিয়ে গেল তার মা।কোলের শিশু বুঝতেই পারেনি তার মা মারা গিয়েছেন। স্টেশনে পড়ে থাকা মায়ের মৃতদেহের কাপড় নিয়ে খেললো সে। ভারতের শ্রমিক এক্সপ্রেস মৃত্যুযাত্রার পরিবহণে পরিণত হয়েছে।
একের পর এক ট্রেন, একের পর এক লাশ। মাসের পর মাস অপেক্ষারত পরিবার প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে নিচ্ছেন আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের নিথর দেহ। এ দৃশ্যে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষ। কিছুতেই আর কিছু এসে যায় না। যদি না ওই শিশুটি নাড়িয়ে দিতো। তার এক মিনিটের ভিডিও ঝাঁকিয়ে দিতো গোটা ভারতবর্ষকে।
গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে বিহারে নিজের গ্রামে ফিরছিলেন ২৩ বছরের এক পরিযায়ী শ্রমিক। সঙ্গে ছিল তাঁর কোলের শিশু। কাজ চলে গিয়েছে বহু দিন। লকডাউনে আটকে থাকাকালীন প্রতিদিন খাবার জোটেনি। একবেলা নিজে খেয়েছেন, একবেলা শিশুকে খাইয়েছেন। এমনই পরিস্থিতিতে শোনা যায়, সরকার ‘শ্রমিক ট্রেন’ চালাবে। ফেরা যাবে বাড়ি। গুজরাটের প্রায় ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শিশুকে কোলে নিয়ে স্টেশনে পৌঁছেছিলেন ওই নারী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে থেকেছেন ট্রেনে ওঠার জন্য। নামার কথা ছিল মুজফফরপুর।
মঙ্গলবার সকালে দেশের সুপ্রিমকোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল, দিল্লির রাস্তায় আর একজনও পরিযায়ী শ্রমিক নেই। সকলকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই দিনের ট্রেন যাত্রায় খাবার মেলেনি, মেলেনি খাওয়ার জল। দিনের বেলা ট্রেনের জানলা দিয়ে গরম লু ঢুকেছে কামরায়। লোহার গাড়ি আরও গরম হয়েছে। মুজফফরপুর আসার আগেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নারী। মুজফফরপুরে ওই অবস্থাতেই নামিয়ে দেওয়া হয় ওই তাঁকে। স্টেশনেই তাঁকে শুইয়ে দিয়ে শরীর ঢেকে দেওয়া হয় কাপড়ে। কারণ আর চৈতন্য ফেরেনি তাঁর। কোলের শিশু কিছুই বুঝতে পারেনি। মায়ের শরীরের ওপর দেওয়া কাপড় নিয়ে সে খেলেছে। বার বার ডেকেছে মাকে। মর্মান্তিক এই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে।
ওই শিশুটির একটি ভিডিও বাস্তবকে সামনে নিয়ে এসেছে। নইলে আমরা জানতেই পারতাম না যে, প্রতিদিন শ্রমিক এক্সপ্রেস থেকে কোনও না কোনও স্টেশনে নামছে পরিযায়ী শ্রমিকের লাশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারেই ১০ জন শ্রমিকের মৃতদেহ নামানো হয়েছে। প্রায় সকলেই গরমে, না খেতে পেয়ে, জলের অভাবে মারা গিয়েছেন।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কথা সকলেই জানেন। কিন্তু কেউ কোনও কথা বলছেন না। ঠিক যে ভাবে বার বার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে গোটা লকডাউনের সময় জুড়ে পায়ে হেঁটে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা এবং রাস্তায় মারা যাওয়ার বিষয়টি। যথারীতি রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, মুজফফরপুরের নারী আগেই অসুস্থ ছিলেন। সে কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিরোধীরা ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করেছে। রাজনীতি চলছে রাজনীতির মতোই।




মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে:ব্রিকস
হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র
তুর্কি, সৌদি ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে যা বললেন: জয়সোয়াল
সার্জিও গর বাংলাদেশ সফরে কী বার্তা দিয়ে গেলেন?
পরীক্ষা সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা মোদির
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের ঘোষণা
ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেলে কিছুই যায় আসে না: ট্রাম্প
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সোয়াল
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি 