মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | ইউরোপ | পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম » বাংলাদেশসহ ৪৪টি জলবায়ু বিপদাপন্ন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর এলডিসি জোট
বাংলাদেশসহ ৪৪টি জলবায়ু বিপদাপন্ন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর এলডিসি জোট
বিবিসি২৪নিউজ, এম ডি জালাল, জার্মানির বন থেকে: জার্মানির বন জলবায়ু আলোচনায় এলডিসি দেশগুলোর জোর দাবি: দ্রুত নির্গমন হ্রাস, জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ সহায়তা জোরদার করার আহ্বান
জার্মানির বন শহরে শুরু হওয়া বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় উন্নত দেশগুলোর দ্রুত নির্গমন হ্রাস, জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশসহ ৪৪টি জলবায়ু বিপদাপন্ন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জোট।
নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১ সামনে রেখে মধ্যবর্তী বন আলোচনার শুরুতে এলডিসি জোটের পক্ষে বক্তব্য দেন তিমুর লেস্টের জলবায়ু নেগোসিয়েশটর আদাও বারবোসা।
এলডিসি জোট বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক নির্গমন প্রবণতা প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জলবায়ু সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
জাতিসংঘ জলবায়ু কাঠামো কনভেনশনের ৬৪তম অধিবেশন বা এসবি৬৪ আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এলডিসি জোট বলেছে, আসন্ন কপ–৩১–এর পথে জলবায়ু ন্যায়বিচার, সংহতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বাস্তব সহায়তাই হতে হবে মূল অগ্রাধিকার।
জোটটির সভাপতি বলেন, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বহুপাক্ষিক জলবায়ু সহযোগিতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন করা এবং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব বাস্তবায়নে রূপ দেওয়া।
তিনি বলেন, “এলডিসি দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কোনো ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নয়, এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা।” খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এসব দেশের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এলডিসি জোট উন্নত ও বড় নির্গমনকারী দেশগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক লক্ষ্য অনুযায়ী দ্রুত কার্বন নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক স্টকটেকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, বর্তমান গতিপথ ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।
জলবায়ু অর্থায়নকে এলডিসি দেশগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জোটটি নতুন যৌথ পরিমিত অর্থায়ন লক্ষ্য (এনসিকিউজি) দ্রুত বাস্তবায়ন, অভিযোজন অর্থায়ন অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি এবং অনুদানভিত্তিক সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া অভিযোজন তহবিলকে শক্তিশালী করা এবং প্যারিস চুক্তির পূর্ণ কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার তহবিল দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া জলবায়ু ক্ষতির প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।
এলডিসি জোট আরও বলেছে, অভিযোজন সূচক, ন্যায্য রূপান্তর, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু শিক্ষা বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন জলবায়ু–সম্পর্কিত বাণিজ্য ব্যবস্থা যেন দুর্বল অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এলডিসি জোটের মতে, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া জলবায়ু প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। তারা বলেছে, “প্যারিস চুক্তির সাফল্য নির্ধারিত হবে আলোচনার টেবিলে নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে মানুষ কতটা সহায়তা পাচ্ছে তার ওপর।”
জোটটি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক আইনি অগ্রগতির কথাও তুলে ধরে। বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত উদ্যোগকে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৮ জুন শুরু হওয়া দুই সপ্তাহ ব্যাপি বন আলোচনা শেষ হবে ১৮ই জুন। #SB64




প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের চাপ বাড়ছে, জার্মানিতে মধ্যবর্তী জলবায়ু আলোচনা শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ক্ষোভ-উত্তেজনা ফুঁসছে ভারত
দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার
ইরানের শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিচ্ছে আমিরাত
ইরানে মার্কিন হামলায় অস্ট্রেলিয়ার গভীর উদ্বেগ
খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি, নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব: বাহরাইনও জর্ডান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র 